সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ও ভৌগোলিক দূরত্ব কখনো কখনো পারিবারিক রক্তের টান ছিন্ন করতে পারে না, যার এক বাস্তব প্রমাণ মিলেছে মেহেরপুর সীমান্তে। মৃত্যু সংবাদ পেয়ে অবশেষে বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেলেন বাংলাদেশে বসবাসরত বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক যোগাযোগ ও যাতায়াতের এই কৃত্রিম বাধা উপেক্ষা করে স্বজনদের এই আকুল মিলন উপস্থিত লোকজনের হৃদয়েও গভীর রেখাপাত করে।
বৃহস্পতিবার মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার স্বাধীনতা সড়কের ১০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায় বেলতলায় এই আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পারস্পরিক সমঝোতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মেহেরপুরের এই সীমান্তে স্বজন হারানো এক কন্যার সঙ্গে তার মৃত পিতার শেষবারের মতো সাক্ষাতের এই সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে মানবিক সম্পর্কের জয়গান গীত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বেশি সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবিক নানা বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তা আসায় দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা পরিবারগুলো এভাবে অন্তত শেষবিদায়টুকুন জানানোর সুযোগ পাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি সদস্যদের সহযোগিতায় অত্যন্ত শান্তিপূণ পরিবেশে এই অন্তিম বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক