চীনের রাজনীতিতে শি জিনপিংয়ের উত্থান শুধু একজন নেতার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ঘটনা নয়; এটি দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর একটি বড় পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। ২০১২ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে তিনি ধীরে ধীরে দল, রাষ্ট্র, সামরিক বাহিনী, অর্থনীতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করেছেন। আধুনিক বিশ্বে পরাশক্তি হিসেবে চীনের আত্মপ্রকাশ এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পেছনে রয়েছে শি জিনপিংয়ের সুনির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ।
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিং তাঁর দীর্ঘমেউাদি রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দলের ভেতরে আদর্শগত ঐক্য জোরদার করেছেন এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। দুর্নীতিবিরোধী অভিয পরিচালনার মাধ্যমে তিনি যেমন দলের ভেতর নিজের বিরোধীদের কোণঠাসা করতে সক্ষম হয়েছেন, তেমনি জনগণের মাঝে নিজের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করেছেন। এছাড়া, অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি চীনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মতো মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বেইজিং বিশ্বজুড়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত জাল বিস্তার করেছে। অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোকে কঠোর হাতে মোকাবিলা করার নীতি চীনের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শি জিনপিংয়ের এই সুদূরপ্রসারী কৌশলগত পদক্ষেপগুলো কেবল বেইজিংয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই প্রভাবিত করছে না, বরং সমগ্র বিশ্বব্যবস্থার গতিপ্রকৃতিকেও নতুন রূপ দিচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক