ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের ইকইছড়া বাজারে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পর আদালতে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং বাদীপক্ষের অভিযোগের বিপরীতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দশ মাস নীরব থাকার পর হঠাৎ করে এই মামলা দায়েরের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে জনমনে তীব্র কৌতূহল বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইকইছড়া বাজারে সংঘটিত ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সে সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটালেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা জোরালো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। তবে সম্প্রতি আদালত পর্যন্ত গড়ানো এই মামলায় স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী ১১ জন নেতাকে আসামি করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা স্থানীয় কোন্দল এবং আধিপত্য বিস্তারের পুরোনো রেষারেষি থেকেই এই ধরনের হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতারা এই মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা ফায়দা লোটার অভিপ্রায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হলে তা এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করবে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা। অন্যথায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক