সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা আজ এক তীব্র শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের কারণে সম্পূর্ণ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বকেয়া বেতন ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হঠাৎ করেই সহিংস রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থারা এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা চারদিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে।
তীব্র এই সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি অফিসিয়াল গাড়িতে হামলা চালিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করে, যার ফলে গাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সংঘর্ষের এই ভয়াবহ তাণ্ডবে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সংবাদকর্মী এবং অর্ধশতাধিক সাধারণ শ্রমিকও এই সংঘর্ষে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত শ্রমিক ও পুলিশ সদস্যদের দ্রুত উদ্ধার করে সাভারের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এদিকে এই ঘটনার পর পুরো হেমায়েতপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলজুড়ে চরম আতঙ্ক এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংবাদকর্মীদের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পুরো ঘটনার পেছনের মূল কারণ উদঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক