চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে তারেক হোসেন বাপ্পি নামের এক তরুণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী সেলিম উদ্দিনসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে সকল আসামিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। নিহতের মা বাদী হয়ে গত ১৮ অক্টোবর সীতাকুণ্ড থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের গ্রেপ্ত অভিযানে নামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। খুব দ্রুতই সব আসামিকে আইনের মুখোমুখি করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচলয় যাই হোক না কেন, কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেছে যে, এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীরা কঠোর শাস্তি পাবে এবং এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক