চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আয়োজিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর এবং চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ মহলের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের আটক করে পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি, থানার কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ বা অর্থ সংগ্রহকারী ব্যক্তির কার্যক্রম এবং একজন সরকারি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ে কিছু পুলিশ সদস্যের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করছে। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মাদক নির্মূলের পরিবর্তে বরং মাদক কারবারিদের সাথে এক শ্রেণির পুলিশের গোপন সখ্য গড়ে উঠেছে বলে জোরালো দাবি করা হয়। এছাড়া, নিরীহ ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের হয়রানির অংশ হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার বিষয়টি অবিলম্বে তদন্ত করে দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
সভায় উঠে আসা এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, পুলিশের ভেতরের এই ঘুণে ধরা দুর্নীতি দূর না করলে অপরাধ দমন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যেভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো এবং দুর্নীতির অভয়ারণ্য তৈরি করা হয়েছিল, বর্তমান প্রশাসনের উচিত সেই অন্ধকার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক