জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বী ৯ জনের আত্মত্যাগ ও স্মৃতি তুলে ধরে বিসর্জন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সনাতন শহীদেরা শীর্ষক একটি বই প্রকাশ করেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। সোমবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বইটি প্রকাশ করা হয়। জাদুঘরের এ প্রকাশনাকে বাংলা ভাষায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন দেশের বুদ্ধিজীবী ও গবেষকেরা। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা দুঃশাসন, বৈষম্য এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। সেই রক্তক্ষয়ী দিনগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বী তরুণ ও সাধারণ মানুষেরা রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলেন এবং ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
প্রকাশিত এই বইটিতে শহীদদের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবারের সংগ্রাম এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রামাণ্য দলিল তুলে ধরা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কতৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানান, এই সংকলনটি প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের আত্মত্যাগকে সমান মর্যাদায় স্মরণ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া। শারদীয় দুর্গাপূজার পবিত্র লগ্নে এই বইটির প্রকাশ সনাতন ধর্মাবলম্বী শহীদ পরিবারগুলোর মাঝে এক ধরণের সান্ত্বনা বয়ে এনেছে এবং তাদের আত্মত্যাগকে জাতীয় স্বীকৃতি দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শহীদদের স্মরণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে এই প্রকাশনাটি একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সকল মত ও পথের মানুষের রক্ত একাকার হয়ে গিয়েছিল, যা আমাদের জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এই সম্মিলিত প্রতিরোধে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু বলে কোনো ভেদাভেদ ছিল না, বরং সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পণ করেছিল। শহীদদের এই আত্মত্যাগ যেন কোনোভাবেই হারিয়ে না যায়, সেজন্য এই ধরনের প্রামাণ্য গ্রন্থ প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের এই উদ্যোগ কেবল শহীদদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন নয়, বরং এটি ইতিহাসের পাতায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক অমর দলিল হয়ে থাকবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত তথ্য ও ছবির সমন্বয়ে বইটি প্রস্তুত করা হয়েছে, যা আগামী দিনে গবেষকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক