হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং কার্যক্রম চালুর পর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিদেশফেরত যাত্রীরা। সোমবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে স্বয়ং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে লাগেজ প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছিলেন। বর্তমান সরকারের আমলে যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে এখন ফ্লাইট অবতরণের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বেল্টে লাগেজ চলে আসছে, যা যাত্রীদের বিদেশযাত্রা ও দেশের মাটিতে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতাকে অনেকটাই আনন্দদায়ক করে তুলেছে।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল ঘুরে দেখেন এবং যাত্রীদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধার খোঁজখবর নেন। এ সময় যাত্রীরা দ্রুততম সময়ে লাগেজ পাওয়ার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন খাতের মতো বিমানবন্দরগুলোতেও চরম অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম ছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল সাধারণ যাত্রীদের ওপর। এমনকি কার্যকর কোনো তদারকি না থাকায় ফ্যাসিস্ট আমলের সিন্ডিকেটগুলো যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই জনদুর্ভোগ লাঘব করে সেবামুখী ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিমান খাতের এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন গতি আনবে। বিশেষ করে প্রবাসীরা যারা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাদের সময় বাঁচানো এবং হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। এই উদ্যোগের ফলে সামগ্রিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এবং যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক