জায়গা ও অর্থসংক্রান্ত জটিলতায় প্রায় ২০ কোটি টাকার পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ার আট বছর পরও স্থায়ী নিরাপদ পানি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি সীতাকুণ্ড পৌরসভায়। ২৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভার ৫০ হাজার ১৩১ বাসিন্দার জন্য নেই কার্যকর কোনো কেন্দ্রীয় নিরাপদ পানি সরবরাহব্যবস্থা। অনেক এলাকায় দীর্ঘ আট বছর ধরে এই সংকট জিইয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সুপেয় পানির ঘাটতির কারণে পৌর এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো দৃশ্যমান সুফল সাধারণ মানুষ পায়নি। এর পেছনে তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা অনিয়মকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে কার্যকর কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা না থাকায় এবং কার্যকর উদ্যোগের অভাবে আজ সীতাকুণ্ডের সাধারণ মানুষকে বিশুদ্ধ পানির জন্য চরম সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপেয় পানির এই সংকট নিরসনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও আন্তরিক ও তৎপর হতে হবে। সীতাকুণ্ড পৌরসভার মতো জনবহুল এলাকায় দ্রুত একটি স্থায়ী পানি শোধনাগার স্থাপন এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িতে নিরাপদ পানি পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত এই জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক