পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে হত্যার পর তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে অত্যন্ত চতুরতার সাথে হত্যাকারীরা নিহতের পরিবারের সাথে শোক প্রকাশ করতে আসে এবং শিশুটির সন্ধান ও বিচার চেয়ে আয়োজিত মানববন্ধনেও স্বশরীরে অংশ নেয়।
তদন্তে নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার ভিত্তিতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। পুলিশ জানায়, আসামিরা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেছে এবং জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। মানববন্ধনে আসামিদের অংশ নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ঘৃণা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নিহতের পরিবার এবং এলাকাবাসী দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে। পূর্বে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এ ধরনের অপরাধের বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যেত বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমনের দাবি উঠেছে সব মহল থেকে। কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিংবা অন্যান্য কোনো অপরাধী চক্রের সাথে এদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিহত শিশু কামরুন্নাহার কলির পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক