জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম ও তার বিশ্বজনীন অবদান নিয়ে সম্প্রতি এক বিশেষ আলোচনা সভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বিদ্রোহী কবির আজীবন সাধনা এবং তার অনন্য সৃষ্টিশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ তার নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন যে কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একজন সাধারণ কবি নন, তিনি ছিলেন এক মহাপুরুষ। তার লেখনীতে সাম্য, দ্রোহ এবং মানবতার যে জয়গান গীত হয়েছে, তা মানবসভ্যতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই ধরনের মহান ব্যক্তিত্ব যুগে যুগে জন্ম নেন না। তার মতো একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী সাহিত্যিকের আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ স্বীকৃতি না পাওয়াটা বিশ্বসাহিত্যের জন্যই এক অপূর্ণতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা ভারতীয় হাইকমিশনারের এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন। তারা বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করার ক্ষেত্রে নজরুলের অবদান অপরিসীম। অথচ তৎকালীন রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতার কারণে তার সঠিক আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন হয়নি। বর্তমান সময়ে কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ ও দ্রোহের বাণী বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে নজরুলের সঠিক মূল্যায়ন ও গবেষণার পথ সংকুচিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সাংস্কৃতিক কুফল থেকে মুক্ত হয়ে আজ নতুন বাংলাদেশে জাতীয় কবির সঠিক ইতিহাস ও তার অবমূল্যায়নের বিষয়টি উন্মুক্তভাবে আলোচনা করা সম্ভব হচ্ছে। এই আলোচনা সভাটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং কবির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক