মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিনামূল্যে যাওয়ার যে তথ্য তিনি দিয়েছিলেন, তা সম্পূর্ণ সঠিক বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এ তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই করেই গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে এবং এতে কোনো অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য নেই। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমবাজারের এই নতুন সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন খরচ কমানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের কারণে কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতো। সেই দুর্দিন পেরিয়ে বর্তমান প্রশাসনের নানামুখী পদক্ষেপে শ্রমবাজার এখন অনেকটাই স্বচ্ছতার দিকে এগোচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও জানান, বর্তমান সরকার দেশের কর্মক্ষম যুবসমাজকে বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। মালয়েশিয়ার সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। অতীতে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রবাসীদের কল্যাণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ শ্রমিকদের শোষণ করা হয়েছে। এমনকি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের চাঁদাবাজির কারণেও প্রবাসীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে একটি জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১০ হাজার কর্মীর এই বিনামূল্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং বেকারত্ব হ্রাসে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে এই কোটা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। ডা. জাহেদ উর রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, দালাল চক্রের প্রভাবমুক্ত হয়ে কর্মীরা নিরাপদে এবং কোনো ধরনের আর্থিক বোঝা ছাড়াই মালয়েশিয়ায় তাদের কর্মজীবন শুরু করতে পারবেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক