যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল ও শার্শা এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের জোরালো অভিযোগ, সীমান্ত রুট ব্যবহার করে নিয়মিত অভিনব কায়দায় মাদকের বড় বড় চালান দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় গ্রাম ও জনপদের প্রতিটি অলিগলিতে ফেনসিডিল, ইয়াবা এবং বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক নেশাজাতীয় উপকরণের অবাধ ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে এলাকার উদীয়মান ও তরুণ প্রজন্ম মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অপূরণীয় নৈতিক অবক্ষয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এলাকাবাসী জানান, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটিতে একসময় যুবসমাজ খেলাধুলা ও গঠনমূলক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাদকের সহজলভ্যতার ফলে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ ধ্বংসের কিনারায় গিয়ে ঠেকেছে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের গোপন যোগসাজশে এই অবৈধ মাদক ব্যবসা রমরমা হয়ে ওঠে। কার্যকর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ অভিভাবকরা অবিলম্বে এই মরণনেশার বিস্তার রোধে কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সীমান্তবর্তী প্রতিটি পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বৃদ্ধি করা এবং নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক কারবারিদের কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। একই সাথে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পাড়া ও মহল্লায় জোরালো জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বহুমুখী সুযোগ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক