ব্রিটেনে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং দেশটির মূলধারার রাজনীতিকরা তা মোকাবিলায় বিপজ্জনকভাবে উদাসীন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটিশ সমাজে এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর পেছনে গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে যা সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বৈষম্য শুধু ব্যক্তিগত পক্ষপাতের বিষয় নয়; বরং রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ব্রিটিশ সমাজে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চলমান এই বৈষম্যমূলক আচরণ কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে কার্যকর আইন প্রণয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এখনই যদি মূলধারার রাজনীতিকরা এই ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেন, তবে তা ভবিষ্যতে সামাজিক বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। তাই কেবল কথার কথা না বলে, মাঠপর্যায়ে বাস্তবসম্মত ও কঠোর নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল এই বিপজ্জনক প্রবণতা রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক