সুসম্পর্ক বজায় রাখা, পরস্পরের অধিকার আদায় করা এবং অন্যের উপকারে এগিয়ে আসাকে ইসলামের দৃষ্টিতে ঈমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মানবজীবনকে সুন্দর ও শান্তিময় করে তুলতে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সদ্ভাবের কোনো বিকল্প নেই। ইসলাম সবসময় মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার শিক্ষা দেয় এবং এ বিষয়ে জোরালো তাগিদ প্রদান করেছে।
এ বিষয়ে প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া এবং সহানুভূতির বিষয়টি একটি একক দেহের মতো। দেহের কোনো একটি অঙ্গ যদি কষ্ট পায়, তবে পুরো শরীরই সেই জ্বালা ও অনিদ্রায় আক্রান্ত হয়। এই হাদিসের মাধ্যমে মূলত মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক একতা, সংহতি এবং গভীর সুসম্পর্কের কথাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সমাজে বসবাস করতে গেলে একে অপরের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা প্রতিটি মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। অন্যের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত করা এবং বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
বর্তমান আধুনিক যুগেও এই শাশ্বত ইসলামিক মূল্যবোধগুলো অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে একে অপরের অধিকার রক্ষা এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমেই একটি আদর্শ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যা ইসলাম সবসময় কামনা করে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক