সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন

সারোগেসি ও ইসলাম: অন্য নারীর গর্ভে সন্তান ধারণের বিধান

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতিতে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে নানা ধরনের নতুন ও যুগান্তকারী পদ্ধতি চালু হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সারোগেসি বা অন্য নারীর গর্ভে সন্তান ধারণ। কোনো দম্পতি সন্তান ধারণে অক্ষম হলে অন্য একজন নারী চিকিৎসকের সহায়তায় গর্ভ ভাড়া নিয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে থাকেন। তবে ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিতে এই পদ্ধতির বৈধতা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা চলছে। ইসলামি শরিয়তে সারোগেসি নিয়ে স্পষ্ট কিছু নির্দেশনা রয়েছে যা ফিকাহশাস্ত্রবিদগণ ব্যাখ্যা করেছেন।

ইসলামি আইন অনুযায়ী, বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর নিজস্ব শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করে যদি অন্য কোনো নারীর গর্ভে সন্তান স্থাপন করা হয়, তবে তা অধিকাংশ ইসলামিক স্কলারের মতে নিষিদ্ধ বা হারাম। এর প্রধান কারণ হলো, এতে বংশমর্যাদার সংমিশ্রণ ঘটে এবং জন্মদাতা মা কে হবেন তা নিয়ে শরিয়তের নিয়মের বরখেলাফ হয়। পবিত্র কুরআনে মায়ের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, যে নারী গর্ভধারণ করেন এবং জন্ম দেন তিনিই মা। কিন্তু সারোগেসির ক্ষেত্রে বায়োলজিক্যাল মা এবং গর্ভধারণকারী মা আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে উত্তরাধিকার ও মাহরামের জটিলতা তৈরি হয়।

তবে সমসাময়িক কিছু গবেষক ও ইসলামি চিন্তাবিদ মনে করেন, যদি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি একই স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু দিয়ে তাদের নিজেদের বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের শুক্রাণু বা ডিম্বাণুর মিশ্রণ না ঘটে, তবে কিছু বিশেষ ও জরুরি পরিস্থিতিতে এর ব্যতিক্রমী বিচার হতে পারে। তা সত্ত্বেও সাধারণ ফতোয়া অনুযায়ী, বংশের পবিত্রতা রক্ষা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে ইসলামে সারোগেসি বা গর্ভ ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাক না কেন, শরিয়তের মূল ভিত্তি হলো মানব বংশের সুস্থতা ও নৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD