আদালতে গত মঙ্গলবার সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে প্রধান বিচারপতির এজলাস ছেড়ে চলে যাওয়ার অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়টি জাতীয় সংসদের নজরে এনেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। এই ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত আখ্যায়িত করে তিনি জাতীয় সংসদে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ দেশের আপামর জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হলো বিচার বিভাগ। এই বিচার বিভাগে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত বিচারব্যবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
সংসদে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলাকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং পবিত্রতা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন। তারা উল্লেখ করেন যে, বিচার বিভাগের ওপর যেকোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বা বিশৃঙ্খলা দেশের সামগ্রিক আইনের শাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন অনিয়মের কথা স্মরণ করে বক্তারা বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইনজ্ঞ ও বিশিষ্ট নাগরিকরা গণমাধ্যমকে জানান যে, বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অভিভাবক প্রধান বিচারপতির এমন পদক্ষেপ বিচারিক অঙ্গনের বর্তমান বাস্তবতারই একটি বহিঃপ্রকাশ। অতীতে ফ্যাসিবাদী আমলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যেভাবে খর্ব করা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি রোধে বর্তমান সংসদ ও সরকারকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান তার বক্তব্যে বিচার বিভাগের সার্বিক নিরাপত্তা এবং এর ভাবমূর্তি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাটি নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিচার বিভাগে যে সংস্কারের প্রত্যাশা সাধারণ মানুষ করেছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারার রাজনৈতিক দলগুলোও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সংসদ সদস্যের এই বক্তব্যের পর বিচার বিভাগের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক