কুষ্টিয়ায় নিজ বাবার মৃত্যুর সংবাদ শুনে হৃদয়বিদারক এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে মাগুরা থেকে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন নূরে আলম জিকু (৩৮)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অসুস্থ বা মৃত পিতার মুখটি আর দেখা হলো না তার। পথিমধ্যে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হলো তাকে। বুধবার রাত আটটার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সদর উপজেলার স্বস্তিপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ট্রাকচাপায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত নূরে আলম জিকু কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় জিকুর সঙ্গে থাকা আকিদুল ইসলাম নামের আরও এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নিহত জিকু মাগুরায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে হঠাৎ করেই তার বাবার মৃত্যুর সংবাদ এসে পৌঁছায়। প্রিয় অভিভাবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েও দ্রুততম সময়ে বাড়ি ফেরার তাগিদে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে কুষ্টিয়ার দিকে রওনা হন তিনি।
পথিমধ্যে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের স্বস্তিপুর নামক স্থানে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি ভারী ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ছিট হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নূরে আলম জিকুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত আকিদুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে বর্তমানে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে প্রতিনিয়ত ঝরে পড়ছে তরতাজা প্রাণ, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘাতক ট্রাকটিকে শনাক্ত করতে এবং চালককে আইনের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক