ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী জেলায় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো মদিনা মসজিদ-এর অংশবিশেষ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে স্থানীয় পৌরসংস্থা। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর কেডি গেট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে স্থানীয় সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট সীমানা লঙ্ঘন করে সরকারি জমিতে এই স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছিল এবং সড়ক জ্যাম নিরসনের জন্য এই প্রশস্তকরণের কাজ অত্যন্ত জরুরি ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা গণমাধ্যমকে জানান, কোনো রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে ভারী পুলিশ বাহিনী এবং বুলডোজার নিয়ে মসজিদ চত্বরে হাজির হয় পৌর কর্তৃপক্ষের লোকজন। এরপর ঐতিহাসিক এই ইমারতের সামনের অংশের একটি বড় অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত কয়েক বছর ধরে ভারতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় স্থাপনা বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপাসনালয় টার্গেট করার অভিযোগ উঠছে উগ্রপন্থী দলগুলোর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা বলেছেন যে, ঐতিহ্যের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা না দেখিয়ে একতরফাভাবে এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর জন্য বড় হুমকি।
উজ্জয়িনী প্রশাসনের এই বিতর্কিত পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও ধর্মীয় নেতারা বলেছেন যে, যদি কোনো আইনি জটিলতা বা সরকারি জমি দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থেকেও থাকে, তবে তা আলোচনার মাধ্যমে বা বিকল্প ব্যবস্থা করে সমাধান করা যেত। কিন্তু রাতের অন্ধকারে বা হঠাৎ করে বুলডোজার চালিয়ে ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংস করার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে স্থানীয় মুসলিমরা আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট