ফেনীর দাগনভূঞায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা সদরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সাংবাদিকদের গণমাধ্যমকে জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করেন এবং লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে দাগনভূঞা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের সহিংসতায় এক পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ১২ জন আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী মতের ওপর চলা দীর্ঘ দমনপীড়ন ও নির্যাতনের পর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন সচেতন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা এই দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
ডেস্ক রিপোর্ট