আধুনিক বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত শহর নিউইয়র্ক। কিন্তু এই শহরের বুকেই রয়েছে এমন এক সম্প্রদায়, যাদের জীবনযাপন আধুনিকতার চেয়ে বহু শতাব্দী পুরোনো ধর্মীয় রীতি ও বিশ্বাসের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এরা হচ্ছেন হাসিদিক ইহুদি—কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন, সীমিত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিজেদের আলাদা সামাজিক কাঠামো বজায় রেখে তারা বসবাস করছেন এই মহানগরীর বুকে।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং এর আশেপাশের এলাকায় এই সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশ ঘন। সাধারণ আধুনিক মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার সঙ্গে এদের জীবনপদ্ধতির রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাত। এরা আধুনিক ইন্টারনেট, টেলিভিশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়া থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখেন। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগেও তারা প্রিন্ট মিডিয়া বা নিজেদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ওপর নির্ভর করেন।
পরিবার পরিকল্পনা বা জনমিতির ক্ষেত্রেও তারা মূলধারার সমাজের বিপরীত স্রোতে চলেন। হাসিদিক ইহুদি পরিবারগুলোতে সন্তানের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি হয়ে থাকে। ১০ বা তার অধিক সন্তান জন্মদান এবং তাদের কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনে লালন-পালন করা এই সমাজের একটি স্বাভাবিক রীতি হিসেবে বিবেচিত হয়। আধুনিক ভোগবাদিতা এবং যান্ত্রিক জীবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থেকে তারা তাদের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে আকড়ে ধরে বেঁচে আছেন।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, হাসিদিক ইহুদিদের এই জীবনযাত্রা আধুনিক সভ্যতার মাঝেও এক ভিন্ন ধারার উপাখ্যান। বাইরের দুনিয়ার চাকচিক্য ও প্রগতির স্রোতে নিজেদের ভাসিয়ে না দিয়ে শত বছরের পুরোনো নিয়মকানুন মেনে চলার যে দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই কৌতূহলোদ্দীপক। সাংবাদিকদের বলেছেন, এই সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনধারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা ও কৌতূহল রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
ডেস্ক রিপোর্ট