সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সুদীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করে দীর্ঘ পাঁচ মাস প্রবাস জীবন কাটিয়ে অবশেষে স্বদেশের মাটি স্পর্শ করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তার এই প্রত্যাবর্তনে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে এক ধরনের আনন্দের জোয়ার বইছে। তার পারিবারিক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার এই প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মির্জা আব্বাসকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে বলে জানা গেছে। এর আগে গত কয়েক মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সার্বিক পরিচর্যা শেষে তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং কর্মক্ষম রয়েছেন। তার এই বিদেশ অবস্থানকালে দলের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তার অনুপস্থিতি অনুভূত হলেও, তিনি দূর থেকেই বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দমনপীড়নের শিকার হয়ে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতাই নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং নির্বিঘ্ন হচ্ছে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের চলাচল। মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার এই সংবাদে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয় ও তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে যে, দেশের এই ক্রান্তিলাগ্নে মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরা দলের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও বেশি সুসংহত করবে। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তার বাসভবন পর্যন্ত পথিমধ্যে তাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য নেতাকর্মীরা মুখিয়ে রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাকে কিছু দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিলেও তিনি অতি দ্রুত দলের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠবেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা গণমাধ্যমকে জানান।
ডেস্ক রিপোর্ট