মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় মায়ের লাশ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেলেন বাংলাদেশে থাকা মেয়ে ও তার পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের যৌথ উদ্যোগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এই মানবিক সুযোগ করে দেওয়া হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার ফলে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই নারী মারা যাওয়ার পর তার বাংলাদেশে অবস্থানরত স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতায় এবং যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর শূন্যরেখায় মরদেহটি নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘদিনের প্রবাস জীবন এবং ভিসাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে যারা ওপারের মাটিতে গিয়ে মায়ের মুখ দেখতে পারতেন না, বিজিবি ও বিএসএফের এই উদ্যোগে তাদের সেই আক্ষেপ কিছুটা হলেও দূর হলো।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং উভয় দেশের সীমান্ত কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের অনুমতিক্রমে এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়। কাঁটাতারের বেড়ার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে মুজিবনগরের আকাশবাতাস। এমন ঘটনা দুই দেশের সীমান্তবাসীর মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানবিক সম্পর্কের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে সংবাদকর্মীদের জানান স্থানীয়রা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক