বিগত এক দশকে ভারতে গণপিটুনির মতো সামাজিক হিংসা এক নতুন ও আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। এ সময় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৫৯ ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে মুসলিম ৩৭২ জন ও হিন্দু ৭৮৭ জন। সম্প্রতি নয়াদিল্লির প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, দেশটিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অসহিষ্ণুতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উত্থান এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘুরা প্রায়শই এই ধরনের নির্মমতার শিকার হচ্ছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের কাছে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও এসব অপরাধের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিসংখ্যানে আরও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে এই সামাজিক ব্যাধি রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং এর সঠিক বাস্তবায়ন দাবি করেছেন। অন্যথায় ভারতের সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক