মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। দুই বছর বয়সী নিষ্পাপ নাতিকে নিজের দুই হাতে তুলে সজোরে মাটিতে ছুড়ে ফেলেছেন পাষণ্ড দাদি মুক্তা বেগম। বয়স মাত্র দুই বছর, অথচ এমন একটি শিশুর ওপর চরম হিংস্রতা প্রদর্শন করেছেন তিনি। সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া এই পৈশাচিক ঘটনার পর কেটে গেছে চার দিন, কিন্তু বিচার পাওয়ার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি তুচ্ছ বিরোধের সূত্রপাত হয়। সেই বিরোধের চরম জের ধরে মুক্তা বেগম তার নিজের দুই বছরের নাতিকে কোনো মায়া-দয়া ছাড়াই শূন্যে তুলে আছড়ে ফেলেন মাটিতে। শিশুটির আর্তনাদে আশেপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও মন গলেনি ওই নারীর। আরও লজ্জাজনক বিষয় হলো, এই অমানবিক ঘটনার সময় মুক্তা বেগমের স্বামী অর্থাৎ শিশুটির দাদা এবং পরিবারের অন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন উপস্থিত থাকলেও তারা এর কোনো ধরনের প্রতিবাদ করেননি। বরং পুরো বিষয়টি তারা নীরব দর্শক হয়ে দেখেছেন, যা সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কেই ফুটিয়ে তুলেছে।
ঘটনার তীব্রতা ও বিচারহীনতার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত শিশুটির পরিবার আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয় থানায় এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা এই নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। অন্যথায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। এদিকে, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এই পাষণ্ড দাদির দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক