পঞ্চগড়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুই পক্ষের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে দুই যুবদল নেতার ওপর হামলার ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সহিংসতায় গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই সময়ে এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ফের অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
সোমবার গভীর রাতে পঞ্চগড় শহরের ব্যস্ততম সিনেমা হল মার্কেট এলাকা এবং জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের ঠিক সামনে এই অপ্রীতিকর ও অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটে। আকস্মিক এই হামলার ফলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাদের দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে এমন সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
এই বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলামসহ দলের আরেক শীর্ষ স্থানীয় নেতা। ঘটনার পরপরই স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাদের উদ্ধার করে দ্রুত আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা খুব দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এবং আইনগতভাবে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা সুপ্ত অবস্থায় থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তর্কোন্দল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তাই বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের আরও বেশি সংযত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক