বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করলেও, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে একই ধরনের অনুশোচনা বা বাস্তবসম্মত স্বীকারোক্তি দেখা যায় না বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সোমবার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং চলমান সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালি-বিধির ৬৮ ধারায় গুরুত্বপূর্ণ এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনায় অংশ নিয়ে ডেপুটি স্পিকার এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ যখন লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন, তখন দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের ঠাট্টা-তামাশাূর্ণ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, এক মন্ত্রীকে তিনি বলতে শুনেছেন যে তার চুল লম্বা, তাই বিদ্যুৎ চলে যায়—এ ধরনের অবাস্তব ও দায়িত্বহীন মন্তব্য জনগণের সঙ্গে একপ্রকারের উপহাসের শামিল। অথচ স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমল থেকেই এই জ্বালানি খাতের লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে আজ দেশের অর্থনীতি এবং জনজীবন বিপর্যস্ত। কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া দুর্নীতির পঙ্কিল আবর্ত থেকে বের হয়ে আসার জন্য বর্তমান প্রশাসনকে আরও কঠোর ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের বলেছেন যে, দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই চলবে না, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও তীব্র রূপ ধারণ করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক