সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকবিরোধী একটি পোস্টে মন্তব্য করার জেরে সন্দ্বীপে এক পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে জখম, অপহরণ এবং চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। এই রোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি মো. করিমকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ। রোববার উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের পণ্ডিতের হাট এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত কয়েকদিন ধরে সন্দ্বীপ উপজেলায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকবিরোধী একটি সচেতনতামূলক পোস্ট দেওয়া হয়। সেই পোস্টে ওই পুলিশ কনস্টেবল একটি প্রতিবাদী মন্তব্য করেন। এই মন্তব্যের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
পরবর্তীতে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে মারধর করা হয় এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে সন্দ্বীপ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে চিরুনি অভিযান শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, এই অপরাধ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে এবং আইনের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সবসময় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে স্থানীয় প্রশাসন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক