চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পরপরই শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন তিনি। তবে শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠার পর এভাবে আকস্মিক ভার্চুয়ালি সভা আহ্বানের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখার স্বার্থেই এই সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সাধারণ শিক্ষক ও অংশীজনদের একাংশের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যে ধরনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত থাকে। এর আগে গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময়ও ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা প্রশ্ন উঠেছিল।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী আমলেও শিক্ষাঙ্গনে ফ্যাসিবাদের দোসররা বিভিন্ন সিন্ডিকেট সভা ও একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে চুয়েটের বর্তমান উপাচার্যের হঠাৎ সিন্ডিকেট সভা ডাকার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থ রক্ষার্থে স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই যেকোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, অন্যথায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে অসন্তোষ দানা বাঁধতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক