নেপালের ভয়াবহ বন্যার সাত দিন পর বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৪৫ দিনের একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর রাশুয়া জেলার শিশুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে রাশুয়া ধাঙ্গে ত্রাণশিবিরে নেওয়া হয়। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে এই ঘটনাটিকে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা ও স্থানীয় জনসাধারণ। প্রবল স্রোত এবং অবিরাম বর্ষণের কারণে যখন চারদিকে শুধু devastation বা ধ্বংসের চিত্র দেখা যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ছোট্ট এই শিশুটির বেঁচে থাকার খবর পুরো এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
গত আগস্ট মাসের শেষভাগ থেকেই নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয়েছিল মৌসুমী ভারী বর্ষণ। এর ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড় ধসের কবলে পড়ে শত শত মানুষ। রাশুয়া জেলাও এই প্রলয়ংকরী বন্যার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেসে যায় বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো। দুর্যোগের ঠিক সাত দিন পর উদ্ধারকর্মীরা যখন রাশুয়া এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, তখন তারা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির কাছ থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। পরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৪৫ দিনের ওই নবজাতককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন তারা।
উদ্ধারের পরপরই শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং দ্রুত রাশুয়া ধাঙ্গে ত্রাণশিবিরে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এত বড় একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে টানা সাত দিন অভুক্ত ও প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও শিশুটির বেঁচে থাকা এক অলৌকিক ঘটনার মতো। এই ঘটনায় বন্যাকবলিত অন্যান্য মানুষের মধ্যেও নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কাজ এখনও পুরোদমে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক