চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীর উজানে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটের সব কটিই খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারতের বিহার রাজ্যের তীব্র বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই ব্যারেজের মাধ্যমেই ভারতের গঙ্গা নদী থেকে পানি প্রবেশ করে বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে। সব গেট একযোগে খুলে দেওয়ায় অতিরিক্ত পানিপ্রবাহের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং প্রতিদিন পানি বৃদ্ধির ফলে নদী তীরবর্তী জনপদে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফারাক্কা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেওয়ার ফলে সৃষ্ট এই জলজট ও আকস্মিক বন্যা কেবল চাঁপাইনবাবগঞ্জ নয়, বরং আশপাশের রাজশাহী ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ভারতের একতরফা পানি ব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নদীর পানিবণ্টন ও সীমান্তবর্তী পানিসম্পদ রক্ষায় কোনো স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ এই সংকটময় মুহূর্তে দেশের সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। এদিকে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ অতীতে ভারতের সাথে নতজানু নীতির পক্ষে অবস্থান নিলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবাসী এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীরা তাদের জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক