যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কখনো তাকে আর না চাইলে তিনি সরাসরি ইসরায়েলে চলে যাবেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে তার জনপ্রিয়তা এতটাই আকাশচুম্বী যে তিনি চাইলে সেখানে গিয়ে খুব সহজেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তার এই মন্তব্য ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। মার্কিন রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে তার এমন ব্যতিক্রমী ও রূঢ় মন্তব্য নতুন কোনো বিষয় নয়, তবে ইসরায়েলকে ঘিরে তার এই নতুন দাবি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের একটি ভিন্ন বহিঃপ্রকাশ। ট্রাম্প প্রশাসন অতীতেও তেলআবিবের প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ও বন্ধুত্বের প্রমাণ দিয়েছে। জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ড স্বাক্ষরের মতো ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলো তার আমলেই বাস্তবায়িত হয়েছিল। ফলে ইসরায়েলি জনগণের একটি বড় অংশের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। মার্কিন রাজনৈতিক ময়দানে নিজের অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিষয়টিকে তার আত্মম্ভরি মনোভাব হিসেবে দেখলেও, তার সমর্থকগোষ্ঠী এটিকে আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবেই মূল্যায়ন করছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই ইচ্ছার বাস্তব কোনো ভিত্তি না থাকলেও রাজনৈতিক প্রচারণার কৌশল হিসেবে এটি বেশ জোড়ালোভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। আগামী দিনগুলোতে তার এই মন্তব্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে আরও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক