প্রবাসী বাংলাদেশিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭টি দেশের বাংলাদেশ মিশনে ৩০ হাজার ১৮৩টি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাপিয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ মে থেকে চলতি বছরের ২ নভেম্বর পর্যন্ত এই এনআইডিগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মিশনে পাঠানো হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার তালিকাভুক্তকরণ এবং এনআইডি সেবা দেওয়ার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং তাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে নির্বাচন কমিশন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে আবেদন করে এই সেবা পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর ফলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে এবং দেশের সাথে তাদের আইনি ও নাগরিক সংযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
এর আগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের আমলে প্রবাসীদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হতো। সে সময় কার্যকরভাবে প্রবাসীদের ভোटाধিকার বা এনআইডি সেবা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে প্রবাসীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এমনকি সেই সময়ে কার্যরত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে নানা টালবাহানা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশন আরও বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে।
পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতেও যেখানে বাংলাদেশি প্রবাসীরা বসবাস করছেন, সেখানে এনআইডি বিতরণের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। মিশনগুলোর মাধ্যমে এই স্মার্ট এনআইডি কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রবাসীরা আরও সহজে ব্যাংকিং লেনদেন, পাসপোর্ট নবায়ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে প্রধান চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও অতীতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। বর্তমান প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এর মাধ্যমে দেশের প্রতি তাদের দেশপ্রেম ও সম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক