ভারতের রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট মসজিদ। ফ্যাকাশে দেয়াল আর সুচালো খিলানগুলো এখনো অক্ষত। মসজিদের আঙিনায় সবুজ ও সাদা টাইলসের অস্তিত্বও রয়েছে। তবে যে মানুষগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় জীবন গড়ে তুলেছিলেন, আজ তাদের এই স্থান থেকে সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকে জানান, যে মসজিদের পাশে তারা বড় হয়েছেন, আজ তারই নির্মম পরিণতি দেখতে হচ্ছে।
দিল্লির এই সংবেদনশীল এলাকায় এমন ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্মারক হঠাৎ করে গুঁড়িয়ে দেওয়ায় মানুষের মনে গভীর আঘাত লেগেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিভিন্ন যুক্তি দেখানো হলেও, ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা এই উচ্ছেদ অভিযের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো ধরনের পুনর্বাসন ছাড়াই হঠাৎ করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় শত শত পরিবার আজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ঘটনাটির পর থেকেই দিল্লির ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অতীতেও এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা ও বসতি উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে নানা সময় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের এত কাছাকাছি অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ এভাবে ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি পুরো দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা তাদের হারানো স্মৃতি ও ইবাদতের একমাত্র কেন্দ্রটি ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক