পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি যানবাহনে জ্বালানি বরাদ্দ অর্ধেক করা, নতুন সরকারি যানবাহন ও ভারী পণ্য কেনা বন্ধ রাখা এবং সরকারি অনুষ্ঠানে সব ধরনের ভোজ বা আপ্যায়ন নিষিদ্ধ করা।
শুধু সরকারি খাতেই নয়, সাধারণ নাগরিকদের জন্যও বেশ কিছু নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে বিয়ের দাওয়াতে অতিথিদের জন্য মাত্র একটি পদ পরিবেশন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। অযথা বিদ্যুৎ অপচয় রোধ এবং জ্বালানির মজুত ধরে রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে পাকিস্তান সরকার এই ধরনের মিতব্যয়ী নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই কঠোর সিদ্ধান্তগুলোকে অপরিহার্য হিসেবে দেখছে দেশটির প্রশাসন। কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ মহলে এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক