শীতের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর শহরের ঐতিহাসিক উলুপুর দিঘি সেজেছে এক নতুন রূপ। অতিথি পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো দিঘি এলাকা। সুদূর উত্তর মেরু ও হিমালয়ের শীতল অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসা এসব সরাল, পিনটেইল, চকাচকি ও নানা প্রজাতির বালিহাঁসের ডানা ঝাপটানোর শব্দে ঘুম ভাঙে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সকালের সোনালী রোদে দিঘির শান্ত জলে পাখির মিতালী দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউ বা আবার বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা একা ক্যামেরার লেন্সবন্দী করতে এই নান্দনিক দৃশ্য।
পরিবেশবাদীরা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে উলুপুর দিঘি এখন পরিযায়ী পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। একসময় কিছু অসাধু শিকারী শীতের মৌসুমে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করলেও, বর্তমানে স্থানীয় সচেতন যুবকদের কঠোর পাহারার ফলে পাখির অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। দিঘির চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এবং জলরাশিতে পাখিদের কেল্লাকহলি এক অপরূপ মুগ্ধতার সৃষ্টি করেছে, যা দেখতে সিরাজগঞ্জ ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসছেন।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, উলুপুর দিঘি শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি তাড়াশ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। শীতকালে এই দিঘিকে কেন্দ্র করে এক ধরণের উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকার সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি এই দিঘিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত পাখি নিবাস হিসেবে ঘোষণা করে এবং এর চারপাশের অবকাঠামো উন্নয়ন করে, তবে এটি দেশের অন্যতম প্রধান একটি পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হতে পারে। প্রতিদিনের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে বিকেলে দিঘির পাড়ে বসে পাখির কলতান শোনার এই অভিজ্ঞতা দর্শনার্থীদের মনে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক