১৫ দিনের ব্যবধানে ফের খোলা হলো কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত ফকির লালন সাঁইয়ের বারামখানা খ্যাত আখড়াবাড়ির মাজারের দানবাক্স। এবার দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা। সোমবার লালন আখড়াবাড়ির মাঠে সাধু-ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে এই দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এর আগে গত ১১ অক্টোবর দানবাক্স খোলা হয়েছিল, যা থেকে প্রায় একই ধরনের অংকের অর্থ পাওয়া গিয়েছিল। নিয়মিত বিরতিতে এসব দানবাক্স খোলার মাধ্যমে মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।
লালন ভক্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসেই নির্দিষ্ট সময় পরপর মররমী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দানবাক্সে নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়। প্রাপ্ত এই অর্থ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে লালন অ্যাকাডেমির তহবিলে জমা করা হয়, যা পরবর্তীতে মাজারের উন্নয়ন এবং সাধুদের সেবায় ব্যয় করা হয়। দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটকরা প্রতিদিন এই মাজারে আসেন এবং তাদের মানত বা শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে দানবাক্সে অর্থ ও বিভিন্ন সামগ্রী প্রদান করে থাকেন।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং লালন অ্যাকাডেমির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই গণনার কাজ শেষে মোট টাকার পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এই কার্যক্রমে উপস্থিত সকলেই স্বচ্ছতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মাজারের পবিত্রতা রক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক