বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দী

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বন্দী রয়েছে বাংলাদেশে। দেশের কারাগারগুলোতে যতজন বন্দী রাখার আনুষ্ঠানিক সক্ষমতা রয়েছে, তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি মানুষ বর্তমানে সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণা ও পরিসংখ্যান থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক দমনপীড়ন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশের কারাগারগুলোতে এই অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের দমনের উদ্দেশ্যে গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারগুলোকে অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছিল। সেই সময় কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর ধরে বিনা বিচারে কারাবাস করেছেন।

কারাগারের এই অতিরিক্ত বন্দীচাপের ফলে বন্দীদের মৌলিক মানবাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দীর কারণে শৌচাগার সংকট, সুপেয় পানির অভাব, এবং মানসম্মত চিকিৎসার অভাবে প্রায়শই নানা ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থার উন্নতির দাবি জানিয়ে আসলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের বিচার বিভাগ এবং কারা কর্তৃপক্ষের উচিত অতি দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিচারাধীন বন্দীদের দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি এবং লঘু অপরাধের ক্ষেত্রে জামিনের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কারাগারগুলোর ওপর থেকে এই অস্বাভাবিক চাপ কমানো সম্ভব। পাশাপাশি, বিচার ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে কারাব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও আধুনিক করে তোলা সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে আর কাউকে এভাবে বিনা বিচারে বা ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দী দশায় দিন কাটাতে না হয়।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD