ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় বুকভরা আশা নিয়ে দিন গুনছিলেন কৃষকেরা। বাগানে ছিল মাসের পর মাসের হাড়ভাঙা শ্রম, ঋণের টাকা আর ভবিষ্যতের সোনালী স্বপ্ন। কিন্তু বুধবার দুপুরের আকস্মিক ও তীব্র ঝোড়ো হাওয়ায় সেই সমস্ত স্বপ্ন মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি এলাকার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে এই প্রলয়ঙ্করী ঝড়। মাত্র কয়েক মিনিটের কালবৈশাখীর মতো এই ঝড়ে প্রায় ৫৩ হেক্টর জমির কলা ও পেঁপের বাগান সম্পূর্ণ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার কয়েকশ প্রান্তিক চাষী।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাদের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের বেশিরভাগই ব্যাংক ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই চাষাবাদ করেছিলেন। কেউ কেউ শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা করছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির এই আকস্মিক তাণ্ডবে তাদের সব পুঁজি এখন বরবাদ। মাঠের পর মাঠ কলার গাছ ভেঙে পড়ে আছে এবং কাঁচা পেঁপে মাটিতে গড়িয়ে নষ্ট হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে তারা ঋণ শোধ করবেন এবং পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেবেন, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলো।
এদিকে আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারিভাবে প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে কৃষকদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা না পেলে তাদের পথে বসার উপক্রম হবে। অতীতেও এমন বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সঠিক সময়ে সরকারি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন অনেকে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক