কুড়িগ্রামের রাজিবপুরের মোহনগঞ্জে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক স্থানীয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রাজিবপুর উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মো. মফিজুল হক উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের পেছনে প্রকৃত সত্য কী রয়েছে, তা উদঘাটনের জন্য উপজেলা ছাত্রদল অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে ঘটনাটির সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার জন্য চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা ছাত্রদল।
তদন্ত কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নানা দমনপীড়ন চালানো হলেও, বর্তমান সময়ে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে, দেশের এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যখন জনগণের অধিকার আদায়ে ব্যস্ত, তখন কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কুড়িগ্রামের এই বিচ্ছিন্ন ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে ছাত্রদল প্রমাণ করেছে যে অপরাধী যেই হোক না কেন, দল কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে পরবর্তী চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক