শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে নীতিনির্ধারক মহল। সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমসাময়িক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে জানানো হয় যে, সরকার শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিগত দিনে বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের ওপর চলা নানা ধরনের বৈষম্য ও অনিয়ম দূর করে একটি ন্যায়ভিত্তিক শ্রমবাজার গড়ে তোলার কাজ চলছে। অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শ্রমিকদের অধিকার হরন করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন অজুহাতে তাদের আন্দোলন দমন করা হয়েছিল। সেই অন্ধকার যুগ পেরিয়ে এখন একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের নায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল লুটপাট এবং বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিকদের জিম্মি করে রাখার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের সমকক্ষ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলো বিভিন্ন মিলকারখানায় চাঁদাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বর্তমান প্রশাসন সেই সমস্ত সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে একটি সুস্থ ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বৈঠকে আরও উল্লেখ করা হয় যে, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে হলে শ্রমিক এবং মালিক উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পসহ সকল খাতের শ্রমিকদের নায্য মজুরি, রেশনিং ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারের এই দূরদর্শী পদক্ষেপে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা নতুন উদ্যমে উৎপাদন কার্য চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানোর জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক