ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আবারও এক নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নানা সময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেওয়া এই শীর্ষ কর্মকর্তা এবার এক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই নিয়ম ভেঙে কঙ্গো দল বাছাইপর্বে গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসিকে খেলায়। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিয়মনীতি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইনের তোয়াক্কা না করে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নেপথ্যে কী ছিল, তা নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মধ্যে নানামুখী প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ফিফার আইন বিভাগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে এবং নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কঙ্গো দলটির এই অনিয়ম প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাধারণত এ ধরনের গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও ফিফা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকান ফুটবল মহলে এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফিফা সভাপতির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবেই এই অনিয়মের বিচার এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা ফুটবলের মূল নীতি ফেয়ার প্লের পরিপন্থী। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক ফুটবলের শৃঙ্খলাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কঙ্গো ও নাইজেরিয়ার মধ্যকার এই ফুটবল কূটনীতির জটিল সমীকরণ এবং ফিফা প্রশাসনের নীরবতা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক গভীর ছায়া ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে নিয়ে তৈরি হওয়া এই নতুন বিতর্ক আগামী দিনে সংস্থার ভেতরের সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিয়ে আরও বড় প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক