বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত দিনে দেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক অধ্যায় ছিল আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো দেশজুড়ে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, তারেক রহমান সর্বদা সেই বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। আজ বিকেলে এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সহানুভূতি ও সমবেদনা জানানো হবে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ক্যাম্পাসগুলোর নিরাপত্তা এবং বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইতিপূর্বে ঘাতকরা যখন ছাত্ররাজনীতির নামে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তখন কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরেোক্ষ মদদে এই ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। এরপর থেকেই তার পরিবার বিচার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আজকের এই সাক্ষাতের মাধ্যমে আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন এমন নৃশংসতা আর কখনো না ঘটে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ সুনিশ্চিত হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক