চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বেশি জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এই খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। তার এই প্রস্তাবনাগুলো বর্তমান সময়ে আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কূটনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে চারটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে সুলভে ওষুধ ও উন্নত স্বাস্থ্য প্রযুক্তির আধুনিক সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, স্বাস্থ্য খাতের দক্ষ জনবল তৈরি এবং মহামারি মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক ঐক্য গড়ে তোলা। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কোনো একক দেশের পক্ষে একা স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও সম্পদ শেয়ার করার মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর যে প্রচেষ্টা চলছে, মন্ত্রীর এই ঘোষণা তারই একটি অংশ। অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন এবং কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সৃষ্ট লুটপাটের রাজত্ব অবসানের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশেষ করে, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এই ধরনের আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অত্যন্ত কার্যকর হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চীনসহ এশিয়ার অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে এই চার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের সাধারণ মানুষ বহুগুণ বেশি উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। ভবিষ্যতে এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক