জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির একনেক সভায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মূলত বর্তমান সরকার এই মেগা প্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা পূরণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করার ওপর কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, যার ফলে দেশের অর্থনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন দেশকে একটি জনকল্যাণমুখী ও দুর্নীতিমুক্ত ধারায় ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।
একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত থেকে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোর সার্বিক দিক তুলে ধরেন। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সঠিকভাবে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি বেকারত্ব হ্রাসেও একটি মাইলফলক অর্জিত হবে। বর্তমান সরকারের এই সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে একটি শক্ত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক