দুর্নীতি কমিয়ে আনতে দেশের সকল মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই বিশেষ কমিটিকে সার্বিক কারিগরি ও আইনি সহায়তা প্রদান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের সচিব সম্প্রতি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম সচিব সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। সভায় অংশ নেওয়া নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই দুর্নীতিবিরোধী কমিটিগুলো গঠিত হলে সরকারি দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। বিগত দিনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরে যে ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছিল, তা কঠোরহস্তে দমন করার জন্যই বর্তমান প্রশাসন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য যে, অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জবাবদিহিতার অভাব ছিল। কার্যকর কোনো তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে দুর্নীতি দমনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, খুব শীঘ্রই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে এই কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞ ও সৎ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যারা নিয়মিতভাবে দুর্নীতির উৎসগুলো চিহ্নিত করবেন এবং দুদকের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং সরকারি সেবামূলক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক