বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। দীর্ঘ সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নিয়ে এখনো ক্ষোভ ও উদ্বেগ রয়েছে দেশজুড়ে। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদী পোস্ট দেওয়ার জেরে তাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।
শহীদ আবরার ফাহাদের এই মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং এটি পুরো জাতির জন্য এক অপূরণীয় শোক। ঘটনার পর বুয়েট শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও আজও তার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন দেখতে অপেক্ষায় রয়েছে তার পরিবার ও দেশবাসী। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আবরার ফাহাদকে স্মরণ করছে। শহীদ আবরারের স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, দেশের স্বার্থের পক্ষে কথা বলার কারণে এমন নৃশংস বলিদান কখনো মেনে নেওয়া যায় না।
এদিকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড একটি বড় ট্রমা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এই দিনে শহীদ আবরারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তারা বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আবরার ফাহাদ যে সাহসিকতা দেখিয়ে গেছেন, তা তরুণ প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী স্বৈরাচারের মদদপুষ্ট অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি আজও জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ আজ এক প্রদীপ্ত প্রতীক। তার এই শাহাদাতবার্ষিকীতে দেশবাসীর প্রত্যাশা, বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ স্তরে এই মামলার চূড়ান্ত রায় দ্রুত কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। শহীদ আবরারের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার রাখতে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন থাকতে পথ দেখাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক