দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাতের টেকসই উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সকলের সম্মিলিত প্রয়াস অত্যন্ত জরুরি।
সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন বিজিএমইএ-এর শীর্ষস্থানীয় নেতারা। রাজধানীর একটি অভিজাত স্থানে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, শ্রমিক স্বার্থ, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে শিল্পের অগ্রযাত্রায় বিরোধী দলের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
বিজিএমইএ নেতারা উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পোশাক খাত দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের ভুল নীতি ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে এই খাত বড় ধরনের ধাক্কা খায়। বিশেষ করে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যবসায়ীদের ওপর নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপ এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল। এছাড়া, এক সময়ের সহযোগিতাকারী শক্তি হিসেবে পরিচিত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক অসন্তোষ এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ব্যবসায়ীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দেশের অর্থনীতি রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে এবং মেহনতি মানুষের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে শিল্পকারখানা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় অর্থনীতি ও রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা আবশ্যক।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ নেতারা জানান, দেশের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে কোনো একটি পক্ষের পক্ষে একা সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই সরকারের নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতা দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো ভবিষ্যতে শিল্পবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখবে এবং দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাতকে সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক