চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সম্পূরক বা সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করার সুযোগ হারাতে পারেন। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে অনমনীয় মনোভাব প্রকাশ করেছে। ফলে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহеলর মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন জটিলতা এবং ফলাফল প্রকাশের সময়সীমার সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার নিয়মের অমিলের কারণেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার পেতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক নীতিমালার বেড়াজালে পড়ে তারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র একটি বা দুটি বিষয়ে প্রাথমিক হোঁচট খাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, কার্যকর কোনো সমন্বয় না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসনের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার দীর্ঘমেয়াদী খেসারত দিতে হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ সমাজকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা উচিত। সেই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি সমন্বিত ভর্তি নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যাতে কোনো সম্পূরক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষা লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। অন্যথায় দেশজুড়ে ছাত্রসমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে এবং এর দায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকেই নিতে হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক