বোয়িং ও এয়ারবাসের কাছ থেকে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে প্রয়োজনীয় সম্ভাব্যতা যাচাই, যাত্রী চাহিদা ও ক্রয় নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন সংসদীয় কমিটির এক সদস্য। রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া সংসদীয় কমিটির সদস্যরা জানান, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এত বিপুল সংখ্যক উড়োজাহাজ কেনা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, যার ছায়া এখনও রয়ে গেছে। কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া বড় বড় কেনাকাটার চুক্তিগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে, জনগণের ট্যাক্সের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচের আগে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মতামত এবং আন্তর্জাতিক মানের বাজার সমীক্ষা চালানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার তাগিদ দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা জানান, দেশের বিমান পরিবহন খাতকে লাভজনক করতে হলে এবং কোনো ধরনের অপচয় রোধ করতে হলে কেনাকাটার প্রতিটি ধাপে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান হয় যে, উড়োজাহাজ আমদানির পুরো প্রক্রিয়ার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এভিয়েশন খাতের অনিয়ম রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক